ঘোষণাপত্র
ভূমিকা
বাংলাদেশের জন্ম প্রায় সাড়ে চার হাজার বছর থেকে সাড়ে পাঁচ হাজার বছর আগে। এই দীর্ঘতম ইতিহাসে বাংলা মাকে আমরা বার বার হারিয়েছি আবার ফিরে পেয়েছি, কিন্তু পলাশী বিপর্যয়ের পর আমরা আর ফিরে পাইনি। ১৩৭৮ বঙ্গাব্দে তথা ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দে, বাংলাদেশের পূর্ব খন্ডে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ লড়াই করে আমরা ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে, সাম্য, মানবিক মর্য্যাদা ও সামাজিক সুবিচারের উদ্দেশে ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ’ নামে স্বাধীন ও সার্বভৌম জাতিরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছি। বাংলাদেশের পূর্ব অংশকে ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ’ নামে স্বাধীন ও সার্বভৌম জাতিরাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার পর নেতাদের নেতা মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী বলেছিলেন, “আসাম আমার, পশ্চিমবঙ্গ আমার, ত্রিপুরাও আমার। এগুলো ভারতের কবল থেকে ফিরে না পাওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মানচিত্র পূর্ণতা পাবে না।” দু:খজনক হলেও সত্য আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো মওলানা ভাসানীর সাথে বেইমানি করেছে।
একটি কাঙ্ক্ষিত মানচিত্র এবং বৈষম্যহীন সমাজ না পাওয়ার বেদনা থেকে আমরা গণআন্দোলন করছি। কাঙ্ক্ষিত সেই মানচিত্র অর্জনে আমরা সহিংস হওয়ার কোনো আহবান জানাচ্ছি না। আমরা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের আওতায় থেকে পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, মেঘালয়, ত্রিপুরা, আন্দামান, আরাকান, শান, মিজোরাম, মণিপুর, নাগাল্যান্ড, অরুণাচল, বিহার, ঝাড়খন্ড, সিকিম ও উড়িষ্যায় একটি অবাধ, সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ গণভোটের আয়োজন করে ইন্ডিয়া এবং মিয়ানমারের শাসকদের কাছে একটা শান্তিপূর্ণ সমাধান কামনা করছি। এ লক্ষ্যে আমরা দেশ-বিদেশে জনমত সংগঠিত করছি। যুগ যুগ ধরে আপনারা যারাই আন্দোলন করেছেন; আন্দোলনের পরে আন্দোলন করেছেন; তারপরেও আন্দোলন করেছেন; সবাইকে আমরা ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। আমরা আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোকে তাদের রাজনৈতিক দিক পরিবর্তনের কথা বলছি। কাঙ্ক্ষিত মানচিত্র পাওয়ার জন্য, বাংলাদেশের মানচিত্র পূর্ণ করার জন্য আমরা সবাইকে একসাথে কাজ করার আহ্বান জানাচ্ছি।
যে অখণ্ড বাংলাদেশ এর কথা কবি কাজী নজরুল ইসলাম লিখেছেন। যে অখণ্ড বাংলার কথা কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছেন। আমাদের পূর্বপুরুষরা যে উদ্দেশ্যে কন্ঠে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান ধারণ করেছেন। যে উদ্দেশ্যে তাঁরা ‘আমার সোনার বাংলা’ কে জাতীয় সঙ্গীত করেছেন। আমরা সেই একই লক্ষ্যে ও উদ্দেশ্যে এগিয়ে চলছি। সেই লক্ষ্য, উদ্দেশ্যে ও স্বপ্ন পূরণে আমরা একঝাঁক তরুণ দিন রাত নিরলস পরিশ্রম করছি।
আমাদের রাজনীতি হবে দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও শোষণমুক্ত কল্যাণকর সমাজ ও রাষ্ট্র গড়ার রাজনীতি। আমাদের রাজনীতি হবে সকলের সমান অধিকার, সমান মর্যাদা ও সমান মালিকানা বিধিবদ্ধভাবে নিশ্চিত করার রাজনীতি। আমাদের রাজনীতি হবে বাংলার বিচ্ছিন্ন অংশগুলোকে বাংলাদেশের সাথে যুক্ত করার রাজনীতি। আমাদের রাজনীতি হবে হিমালয় থেকে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত গাঙ্গেয় ব-দ্বীপ’কে ‘বাংলাদেশ’ নামে স্বদেশ মেনে, তার নিরাপত্তা, অখণ্ডতা, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রত্যয়ে সংকল্পবদ্ধ রাজনীতি। আমাদের রাজনীতি হবে বাংলাদেশের সকল মানুষকে নিয়ে পার্থিব সুখ-সমৃদ্ধির সাথে আত্মমর্যাদা ও উচ্চতর মূল্যবোধের রাজনীতি। আমাদের রাজনীতি হবে সারা দুনিয়াকে নেতৃত্ব দেওয়ার রাজনীতি। আমাদের রাজনীতি হবে দুনিয়াতে শান্তি ফিরিয়ে আনার রাজনীতি।
আমাদের কাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক সংগঠনের গঠন-প্রক্রিয়াতে সমাজের সম্ভাব্য সর্বস্তরের মানুষকে জড়িত করে, তাদের সাথে চিন্তা-বিনিময় করতে চাই। আমরা মনে করি, এটি পদ্ধতিগতভাবে শুধু অধিক অংশগ্রহণমূলক ও গণতান্ত্রিকই নয়, বরং তা বিষয়বস্তুর দিক থেকে আমাদের বোধকে অধিকতর সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী হওয়ারও সুযোগ-দান করবে।
পরিশেষে, আমরা আমাদের লক্ষ্য অর্জনের উদ্দেশে একটি কর্ম-পাটাতন গঠন করে, দেশবাসীর মনোযোগ ও অংশগ্রহণের প্রত্যাশায় নিম্নলিখিত ঘোষণা দিচ্ছি।
ঘোষণা
১. নামঃ দেশ-জাতি-রাষ্ট্র ঘিরে ও জাতীয় ঐক্যের লক্ষ্যে আমাদের প্রতিষ্ঠিত প্রস্তুতি-পাটাতনের নাম ‘অখণ্ড বৃহত্তর বাংলাদেশ আন্দোলন’ বা ‘ABBA’ সংক্ষেপে যা ‘অখণ্ড বাংলাদেশ আন্দোলন’, – ইংরেজিতে ‘United Bengal Movement’.
২. বৈশিষ্ট্যঃ অখণ্ড বৃহত্তর বাংলাদেশ আন্দোলন একটি মতবাদ-নিরপেক্ষ কিন্তু নীতিনিষ্ঠ কর্ম-সংস্থা। অর্থাৎ, এই সংগঠন কোনো পূর্ব-বিশ্বাসিত মতবাদের ভিত্তিতে নয়, বরং বিশ্ব-স্বীকৃত সর্বজনীন মানবাধিকারকে ভিত্তি করে, দেশ-জাতি-রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, কল্যাণ, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতির লক্ষ্যে, যুক্তি ও বিজ্ঞানের আলোকে গণতান্ত্রিক মতৈক্যের ভিত্তিতে গৃহীত নীতি মেনে চলে।
৩. দৃষ্টিবোধ-লক্ষ্যবোধ-মূল্যবোধঃ অখণ্ড বৃহত্তর বাংলাদেশ আন্দোলন দেশ-জাতি-রাষ্ট্রকে মানব-সভ্যতার সমকালীন সম্ভাব্য উচ্চতম পর্যায়ে উন্নীত করার দৃষ্টিবোধে অনুপ্রাণীত; দেশ-জাতি-রাষ্ট্রের সম্ভাব্য সর্বোচ্চ নিরাপত্তা, বিকাশ ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যবোধে সচেষ্ট; এবং সাম্য, মানবিক মর্য্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের মূল্যবোধে পরিচালিত।
৪. দেশঃ হিমালয় থেকে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত গাঙ্গেয় ব-দ্বীপ ‘বাংলা’কে অখণ্ড বৃহত্তর বাংলাদেশ আন্দোলন বাংলাদেশি ও বাঙালি জাতির ঐতিহাসিক আবাসভূমি জানে; কিন্তু নানা ঐতিহাসিক ঘাত-প্রতিঘাত ও বাধ্যতায় বাংলার যে-অংশ ১৩৭৮ বঙ্গাব্দে মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীন হয়েছে, তার স্থল-জল-অন্তরীক্ষের সমষ্টিকে ‘বাংলাদেশ’ নামে স্বদেশ মেনে, তার নিরাপত্তা, অখণ্ডতা, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রত্যয়ে সংকল্পবদ্ধ।
৫.জাতিঃ ঐতিহাসিক-কাল ধরে, যে-বিভিন্ন জাতিসত্তার, ধর্মের ও বর্ণের মানবগোষ্ঠী বাংলায় এসে, একের সাথে অন্যে মিশে, নানা রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার ফলে, সকলে মিলে অভিন্ন দেশবোধ ধারণ করে অভিন্ন আত্মপরিচয় স্বীকার ও প্রকাশ করে, তাদের সমষ্টিকে অখণ্ড বৃহত্তর বাংলাদেশ আন্দোলন স্বজাতি মনে করে, যা সমতলে-পাহাড়ে বাঙালি ও অন্যান্য জাতিসত্তার সমন্বয়ে গঠিত এবং ‘বাংলাদেশি’ নাগরিক-পরিচয়ে আইনতঃ প্রতিষ্ঠিত।
৬.রাষ্ট্রঃ অখণ্ড বৃহত্তর বাংলাদেশ আন্দোলন ১৩৭৮ বঙ্গাব্দের মুক্তিযুদ্ধ-কালে ঘোষিত ও প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্রকে সমগ্র জাতির স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের ঐতিহাসিক অভিপ্রায় ও অভিব্যক্তি স্বরূপ ধর্ম-বর্ণ-লিঙ্গ নির্বিশেষে নাগরিকদের মধ্যে সাম্য, মানবিক মর্য্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি জন-মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান তথা জনরাষ্ট্র মনে করে।
৭. যুবসমাজ: বাংলাদেশের মূলধারার রাজনৈতিক আলোচনা থেকে যুবসমাজ অনেকটাই হারিয়ে গেছে। যুবসমাজ নিয়ে কেউ কথা বলছে না। কেউ তাদের সমস্যাগুলো শুনছে না বা তাদের অস্তিত্বটুকু স্বীকার করারও চেষ্টা করছে না। বিদ্যমান রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর যুবসমাজের আস্থা সংকট, দুর্নীতিমুক্ত শাসনব্যবস্থা, কর্মসংস্থানের অভাব, মাদকাশক্তি, মূল্যস্ফীতি, উচ্চ আর্থিক মানসিক চাপ, আবাসন সক্ষমতার চ্যালেঞ্জ এবং আর্থিক নিরাপত্তাহীনতা- যুবসমাজের মধ্যে বাড়তে থাকা এই উদ্বেগ বিভিন্ন জরিপেও প্রতিফলিত হয়েছে। অখণ্ড বৃহত্তর বাংলাদেশ আন্দোলন যুবসমাজকে দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ মনে করে। দেশের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে যুবসমাজকে সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন মনে করে।
৮. জাতীয় বীরঃ অখণ্ড বৃহত্তর বাংলাদেশ আন্দোলন মনে করে, দেশ-জাতি-রাষ্ট্রের প্রকৃত ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঠিক উপলব্ধি ও চর্চার স্বার্থে, ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব, শাহ-ই বাঙ্গালাহ সুলতান শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ (হাজী ইলিয়াস খান), নবাব মীর সৈয়দ জাফর আলী খান মির্জা মুহাম্মাদ সিরাজ-উদ-দৌলা (নবাব সিরাজউদ্দৌলা), সৈয়দ মীর নিসার আলী (তিতুমীর), সূর্যকুমার সেন (সূর্যসেন), আবুল কাশেম ফজলুল হক, আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দি, শেখ মুজিবুর রহমান, তাজউদ্দীন আহমদ, মুহাম্মদ আতাউল গণি ওসমানী, জিয়াউর রহমান, সিরাজুল আলম খান, প্রমুখকে ‘জাতীয় বীর’ হিসাবে বর্তমান ও ভবিষ্যত প্রজন্মের কাছে গর্ব করার মতো স্মরণীয়, বরণীয় ও শ্রদ্ধেয় করার লক্ষ্যে, সাংবিধানিক স্বীকৃতি-সহ সকলের ঊর্ধ্বে স্থান দিয়ে, রাজনৈতিক দলগুলোর প্রচারে-প্রসারে তাঁদের নাম ও ছবি ব্যবহার-সহ দলীয় ‘মালিকানা’ দাবি নিষিদ্ধ করা উচিত।
৯. দ্বন্দ্ব-নিরসনঃ সাম্প্রদায়িক রাজনীতি কখনও পৃথিবীর কোন জনগোষ্ঠীকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে নি। সর্বদা পিছিয়ে দিয়েছে। সাম্প্রদায়িক রাজনীতি কখনও দেশ বা রাষ্ট্র হিতে কাজে লাগে নি। তাই সাম্প্রদায়িক রাজনীতির চর্চা কাম্য না। ১৩৫৪ বঙ্গাব্দে তথা ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে ধর্ম-ভিত্তিক জাতি পরিচয়ের সাথে ১৩৭৮ বঙ্গাব্দে তথা ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দের ভাষা-ভিত্তিক জাতি পরিচয়ের দ্বন্দ্ব এবং জনরাষ্ট্র পরিচালনে প্রয়োজনীয় গণতান্ত্রিক পদ্ধতির সাথে রাষ্ট্রক্ষমতা-প্রার্থী রাজনৈতিক দলসমূহের অগণতান্ত্রিক নেতৃত্ব-পদ্ধতির দ্বন্দ্ব নিরসন কল্পে, অখণ্ড বৃহত্তর বাংলাদেশ আন্দোলন মনে করে, প্রথমতঃ অভিন্ন জাতিবোধ, ইতিহাসবোধ, দেশবোধ, সভ্যতাবোধ ও বিশ্ববোধ গড়ে তোলার লক্ষ্যে সমগ্র জাতির শৈশব-কৈশোরের শিক্ষাব্যবস্থাকে একটি অভিন্ন জাতীয় শিক্ষাক্রমের আওতায় আনা; দ্বিতীয়তঃ রাষ্ট্র-কাঠামোয় ক্ষমতার ভারসাম্য, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা; এবং তৃতীয়তঃ রাজনৈতিক দলগুলোর নেতৃত্ব-পদ্ধতি ও পরিচালনে গণতন্ত্র নিশ্চিত করে, সংহতিমূলক জাতীয় অগ্রগতির পথে মানবসভ্যতার অগ্রগমনে ভূমিকা-পালনের নিয়তি নির্দেশ করা আবশ্যক।
১০. পুনর্গঠনঃ অখণ্ড বৃহত্তর বাংলাদেশ আন্দোলন মনে করে, একটি জনরাষ্ট্রের প্রকৃত গণতান্ত্রিক হওয়ার জন্য এর প্রয়োজন ন্যুনতম ৫১% ভোটারদের ভোটে নির্বাচিত নির্বাহী ক্ষমতাসম্পন্ন কিন্তু সংসদ দ্বারা অভিশংসনযোগ্য রাষ্ট্রপতি; ভোটারদের দ্বারা নির্বাচিত ও প্রত্যাহারযোগ্য; দ্বিকক্ষ-বিশিষ্ট (দলীয় ও নির্দলীয়) সংসদ, বিচার বিভাগের পূর্ণ-স্বাধীনতা; এবং এই তিন শাখার মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য, জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা, যা আমরা বিগত সময়ে তুলে ধরেছি।
আহবান
বাংলাদেশের ভেতরে ও বাইরে থাকা যে-কেউ এই ঘোষণাপত্র পাঠ-শেষে, এর সাথে একাত্ম হয়ে, নিম্নবর্ণিত সদস্য-যোগ্যতা, সদস্য-অধিকার, সদস্য-দায়িত্ব ও সদস্য-আচরণবিধি অনুসরণ করে একটি যথোপযুক্ত রাজনৈতিক দল গঠনের লক্ষ্যে ভূমিকা পালন করতে চান, তাদের সবার প্রতি সম-মর্য্যাদায় ও সম-অধিকারে অখণ্ড বৃহত্তর বাংলাদেশ আন্দোলনের সদস্য হিসাবে যোগ দেওয়ার উদ্বাত্ত আহবান জানাই।
অখণ্ড বৃহত্তর বাংলাদেশ আন্দোলনের সদস্যত্ব
সদস্য-যোগ্যতা
(১) বয়সঃ ন্যুনতম ১৮ বছর।
(২) রাজনৈতিক সম্পৃক্তিঃ কোনো রাজনৈতিক দল বা তার কোনো অঙ্গসংগঠনের সদস্য না থাকা।
(৩) প্রস্তুতি-পাঠঃ অখণ্ড বৃহত্তর বাংলাদেশ আন্দোলনের ঘোষণা, সদস্য-অধিকার, সদস্য-দায়িত্ব ও সদস্য-আচরণবিধি পড়া।
(৪) সম্মতিঃ অখণ্ড বৃহত্তর বাংলাদেশ আন্দোলনের ঘোষণা, সদস্য-যোগ্যতা, সদস্য-অধিকার, সদস্য-দায়িত্ব ও সদস্য-আচরণবিধি অনুসরণ ও নিয়মিত বার্ষিক চাঁদা পরিশোধ করার সম্মতি ও প্রতিশ্রুতি।
সদস্য-অধিকার
(১) সংগঠনের নীতি, কর্মসূচি, আর্থিক উৎস, বাজেট, বার্ষিক হিসাব সম্পর্কে জানা ও মতামত দেওয়া।
(২) সংগঠনের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ।
(৩) নিম্ন থেকে শীর্ষ পর্যন্ত যে-কোনো পর্যায়ে নির্বাচনযোগ্য পদে প্রার্থী হওয়া।
(৪) প্রাসঙ্গিক স্তরে সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশগ্রহণ করা এবং সাম্য-মর্য্যাদা-সুবিচার পাওয়া।
সদস্য-দায়িত্ব
(১) হালনাগাদ চাঁদা পরিশোধ করা।
(২) ব্যক্তিগত বৃত্তান্ত ও পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্পর্কে সংগঠনকে হালানাগাদ রাখা।
(৩) যথোপযুক্ত উৎস থেকে সাংগঠনিক তথ্যে হালনাগাদ থাকা।
(৪) যথোপযুক্ত স্তরে সাংগঠনিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করা ও সদস্য-আচরণ বিধি মেনে চলা।
সদস্য-আচরণবিধি
(১) সংগঠনের ভিতরে ও বাইরে সামাজিক সৌজন্যতা ও আদব-কায়দা মান্যকরা, এবং সকলের প্রতি সাম্য, মানবিক মর্য্যাদা ও সামাজিক সুবিচার মেনে আচরণ করা।
(২) সর্বজনীন সততা, নিষ্ঠা, অকপটতা মেনে চলা, এবং দেশের আইন-দ্বারা সংজ্ঞায়িত ব্যক্তিগত অপরাধ নিজে না-করা, কিংবা অন্যকে উৎসাহিত বা সাহায্য না-করা।
(৩) সংগঠনের নীতি, কর্মসূচি কিংবা নেতৃত্ব সম্পর্কে সমালোচনা-আত্মসমালোচনা যথোপযুক্ত ফোরামে আত্মমর্য্যাদা, আত্মসম্মান ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা মেনে করা।
(৪) মত-বিনিময়ে অন্যের মত মনোযোগ ও ধর্য্য নিয়ে শোনা এবং বিনয়ের নিজের মত সাথে প্রকাশ করা। ব্যক্তিগত অনুরাগ কিংবা বিরাগের বশবর্তী হয়ে কাউকে অন্যায্য-সমর্থন বা অন্যায্য-সুযোগ না-দেওয়া, কিংবা অন্যায্য-বিরোধিতা ও অধিকার-বঞ্চিত না-করা, এবং অন্যের ব্যক্তিগত পরিধিতে অনুপ্রবেশ না-করা।
